নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কুতুবপুর ইউনিয়নের পূর্ব শাহী মহল্লা এলাকার ভুক্তভোগী নারী আশমা বেগম বাদী হয়ে
কুতুবপুর ইউনিয় ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহজাহান তার বাহিনী শাকিল, রিপন, ফারহান, মেহেদীসহ অজ্ঞাত নামা ১৫/২০ জরেন বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
গত (২৭ অক্টোবর) দায়ের করা অভিযোগে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদ করায় তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আশমার বাড়ির সামনের সড়কে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে তাঁর ছোট ছেলে মো. ইউসুফের সঙ্গে কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। এর মাত্র ১০ মিনিট পর রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, বাড়িতে ঢুকেই হামলাকারীরা ইউসুফকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে গুরুতর জখমের চেষ্টা করা হয়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বৃদ্ধা মা আশমাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আশমা জানান, শুধু মারধরেই থেমে থাকেনি হামলাকারীরা , তাঁরা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান এবং পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া এবং অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন আশমা।
ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী।