মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন ইকবাল বহিষ্কার মুখে কাপড়, হাতে পিস্তল: নারায়ণগঞ্জে ‘টিকটক ওমর’-এর অস্ত্রের মহড়া, নেপথ্যে এনসিপি নেতার ছত্রছায়া! ফতুল্লায় মসজিদের টাকা মেরে কোটিপতি বাবুল-হেনা! দুদকের তদন্তের দাবী!! গোলাপগঞ্জে বেড়েছে হানি ট্র্যাপের চক্র : নেপথ্যে লাইভার খালেদ অনুপস্থিত থেকেও মেলে হাজিরা, নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিস পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ ভূমি প্রতিমন্ত্রী নিষিদ্ধ সংগঠনের টি-শার্ট ও স্টিকার ছাপানোর সময় নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৪ ফতুল্লা বাজারে ড্রেন-রাস্তা-শেড সংস্কার ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জের নতুন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ফতুল্লায় আওয়ামী ক্যাডার তুষার ফের সক্রিয়, জনমনে ক্ষোভ রূপগঞ্জ পূর্বাচলে বেড়াতে এসে বন্ধুদের হাতে খুন, গ্রেপ্তার ২

ফতুল্লায় মসজিদের টাকা মেরে কোটিপতি বাবুল-হেনা! দুদকের তদন্তের দাবী!!

মুহামদ আবদুল মালেক / ৪২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার প্রভাবশালী বাবুল ও হেনা।দরগাঁ বাড়ি জামে মসজিদের মার্কেট,বাজার ও মসজিদ হতে আয় হওয়া কোটি কোটি টাকা নিজেরা লুটপাট করে একেক জন একাধিক বাড়ির মালিক বনে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মুসুল্লি ও এলাকাবাসী।

সস্তাপুরের আওয়ামী লীগ নেতা শাহজালালের সহচর বাবুল, হেনা, আজ ওরা কোটিপতি দুজনেই! একটা সময় ছিলো এক বেলা দু’টি রুটি পেতো না এই দু’টি পরিবার! মসজিদের টাকা চুরি করে কোটিপতি, একাধিক বাড়ির মালিক। লামাপাড়ার মানুষ এক নামে চিনেন মসজিদের টাকা চোর হিসাবে।

লামাপাড়া শিবু মার্কেট এলাকার দরগা বাড়ি মসজিদের কোটি কোটি টাকা চুরি করেছেন বাবুল এবং হেনা।

এমনকি মসজিদের জমি বিক্রির টাকা দিয়ে দুজনে ব্যবসা করে কোটিপতি, মসজিদের কোন কাজে আসে নাই! এরা দুজনেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত সন্মানিত হয়েছে!

তাদের ছেলেদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় ওরা জন্ম সুত্রে জমিদার অথবা কোন রাজা বাদশার ছেলে! সস্তাপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ভূমিদস্যু হিমেলের সাথে মিলেমিশে গত সরকারের আমলে বহু অকারেন্স করেছে, এখন বিএনপি করে চান্দা ভাই সেজেছে!

তাদের ছেলেরা গত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা ছিলো। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ হিসাবে এলাকায় ত্রাসের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। এখন ওরা বিএনপির নেতা, দুঃখজনক হলেও সত্য বিএনপি নেতার ছায়াতলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।

কে এই হেনা:

এই হেনা ও তার বড় ভাই লতু এক সময় মাটি টেনে দিনে মজুরির কামলা করতো। ছিলো টিনের ঘরে। মেঝো ভাইয়ের টাকা পর্যন্ত হেনা মেরে খেয়েছে। যার ফলে টাকার অভাবে মেঝো ভাই ও ভাবী ধুকে ধুকে মরেছে অসুস্থ হয়। মেঝো ভাইয়ের তাদের সন্তানদেরও একই অবস্থা। আর বাবুল মিয়া থাকতো টিন সিটের ঘরে। গরু পালতো। বাপের কিছু জায়গা ছিলো সে জায়গা বিক্রি করে কিছু টাকা পেয়ে বাড়ি ঠিক করছে। এছাড়া এদের কোন আর অর্থ এর উৎস ছিলো। হেনা ও বাবুল কোন কাজ করতো না মাঝে সাঝে একটু দালালি করতো। পশ্চিম লামাপাড়ায় অন্য কেউ এসে যদি বাড়ি বানাতো তাদের বিভিন্ন চাপের মুখে ফেলে কখনো যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে,কখনো কখনো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা করে আবার কখনো পানিতে ডুবি তারা সেই বাড়ী বিক্রি করতে বাধ্য করতো।

আর এই হেনা ও বাবুল মসজিদ কমিটিতে ঢুকে কয়েকশো কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। শুধু মসজিদ কমিটি না পঞ্চায়েত কমিটি, অবস্থান কমিটি সব এক কমিটির লোক ছিলো। তবে সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে তারা কমিটি থেকে সভাপতি সেলিম প্রায় ৫০ হাজার, সাধারণ সম্পাদক হেনা প্রায় ৪০ হাজার এবং কোষাধ্যক্ষ বাবুল ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতন নিতো। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা বেতন নিতো।

মসজিদ দান, বাজার ও মসজিদের পাশে দোকান থেকে ১৭ লাখ টাকা মাসিক উত্তোলন হতো। এছাড়া প্রতিবছর পঞ্চায়েত এর নাম করে প্রায় ১০-১৫ লাখ টাকা আদায় করতো এলাকাবাসীর কাছ থেকে।

অনুসন্ধানে জানা যায় যে, মসজিদ কমিটিতে যারা আছে তারা সবাই এই মুহূর্তে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ যাদের নুত আনতে পান্তা ফুরাতো। আর বাবুল ও হেনার এলাকায় একেক জনের ৫/৬ টা বাড়ি বানিয়ে ফেলেছে। এই টাকার উৎস কি? এছাড়া মসজিদের জমি বিক্রি করে করেও আত্মসাৎ করেছে কয়েক কোটি টাকা। বাবুল হেনার বিরুদ্ধে দুদকে রিপোর্ট দিয়েই সবটাই বের হয়ে আসবে। ছেলেদের ও মেয়েদের নামে বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি করে দেওয়ার এই টাকা কোথা থেকে আসছে। বাবুলের বড় ছেলে আব্দুল্লাতো একজন মাদক ডিলার আর ছোটা ছেলে রনি আওয়ামী তরুন ফতুল্লার সভাপতি। স্বেচ্ছাসেবক লীগ জুয়েলের খাস লোক। রনি এবং তার ভাই আব্দুল্লাহ্ও এখন মসজিদ কমিটির সদস্য। এরা দরগা বাড়ী জামে মসজীদ, পঞ্চায়েত কমিটি ও কবরস্থান কমিটির একই কমিটি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই বিষয় নিয়ে যারায় প্রতিবাদ করেছে তাদেরকেই হেন্সতা করেছে আবার কাউকে চোর আখ্যা দিয়েছে। তবে এরা আজ পর্যন্ত এলাকার কোন অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী অথবা কোন গরীব পরিবারের কোন মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব তো দূর কোন রাস্তা মেরামত অথবা কোন সামাজিক কাজও করে নাই। করেছে নিজেদের নামে মাদ্রাসা, রমজান মাস আসলে হেনা নিজেদের ছেলেদের রাখে দূর দূরান্ত থেকে ভালো ক্বারী বা হিজাফ টাইপের লোক রমজানের তারাবির নামাজ পড়াতে আসলে তাদের ভাইভা দেওয়ার নামে হেনস্তা করে বাদ দিয়ে নিজেদের সন্তানদের নিতো। হেনার দুই ছেলে সহ কমিটির আরেক সদস্য ফারুকের ছেলে সহ দুই জনের ছেলে দিয়ে নামাজ পড়াতো। তাদের পড়ার অনেক ভূল হওয়া শেষেও তারাবির নামাজ শেষ হলে তিন জনক ৭০ হাজার টাকার হাদিয়া দিতো।

আর সবচেয়ে অবাক করার বিষক হলো এই মসজিদের যে ম্যানাজার সে তো হেনা মিয়ার ভায়রাভাই। জালকুড়ি তার নিজস্ব মসজিদ আছে। যখনই মুসল্লীরা ৩০ বছরের হিসাব চেয়েছে তার ভায়রাভাই যাকে ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুই বছর যাবৎ তাকে লুকিয়ে রেখে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে। তারপর থেকে নতুন নাটক শুরু হইছে কখনো বাবুল মিয়া অসস্থ এই তালবানা শুরু হয়েছে।

প্রশাসন, ও দুদুকে ও সাংবাদিকরা ভালো অনুসন্ধান করলে আরো তথ্য বের হবে আসবে এই মসজিদ কমিটির দূর্নীতি নিয়ে।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর