“মাদককে না বলি, খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলি”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বরগুনার আমতলীতে শুরু হতে যাচ্ছে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট—সিজন-০১’। তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
কাউনিয়া যুব সমাজের আয়োজনে এবং মোঃ মহসিন গাজী ও মোঃ মইউদ্দিন সুমনের পরিচালনায় কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এ ফুটবল টুর্নামেন্ট।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হবে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে দূরে রেখে খেলাধুলামুখী করাই এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করছেন তারা।
মানতে হবে কড়া নিয়ম
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলে ছয়জন খেলোয়াড় মাঠে খেলবেন। অতিরিক্ত দুইজনসহ একটি দলে সর্বোচ্চ আটজন খেলোয়াড় রাখা যাবে। প্রতিটি দলের এন্ট্রি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ম্যাচে দলপ্রতি ম্যাচ ফি দিতে হবে ১০০ টাকা।
খেলা শুরুর ৩০ মিনিট আগে খেলোয়াড়দের মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রতিটি ম্যাচ ৩০ মিনিট করে দুই অর্ধে মোট ৬০ মিনিট অনুষ্ঠিত হবে।
টুর্নামেন্টে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। মাঠে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মারামারি কিংবা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদক সেবন করে খেলায় অংশগ্রহণ এবং ভুয়া খেলোয়াড় ব্যবহারের বিষয়েও রাখা হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
চার ধাপে হবে প্রতিযোগিতা
আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টটি চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। তবে আবহাওয়াজনিত কারণে প্রয়োজন হলে খেলার তারিখ পরিবর্তন করা হতে পারে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে আগ্রহী দলগুলোকে তানহা মেডিকেল হল, বটতলা থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য মোঃ মহসিন গাজী, মোঃ মইউদ্দিন সুমন, মোঃ কামাল মিয়া ও এস এম রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
আয়োজকরা আশা করছেন, এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমতলীর তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা আরও বাড়বে, মাঠমুখী হবে যুবসমাজ এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা জোরদার হবে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে গড়ে উঠবে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন।