শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
আমতলীতে চুরি-ডাকাতি, মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দমনে গ্রাম পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা বন্দরে বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ ‘কুখ্যাত ডাকাত’ খোকন চোক্কাসহ ৩ জন গ্রেফতার বন্দরে পূজার মেলায় ৩ যুবককে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় ‘মেডি স্টার’ হাসপাতালে মা ও গর্ভের সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু ফতুল্লায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রাসেলকে খুনের হুমকি দেওয়ানগঞ্জ প্রাইভেট কারে মিলল ২১৫ বোতল ভারতীয় মদ, আটক ২ বন্দরে দেশীয় অস্ত্রসহ মামুন ডাকাতের দুই সহযোগী গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার বন্দরে ​মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায়,পুড়িয়ে দেওয়া হলো ‘ফুলের বাগান রেস্টুরেন্ট’ অগ্রবাণী প্রতিদিনের প্রকাশক-সম্পাদক স্বপন কুমার পোদ্দার আর নেই লক্ষীনারায়ণ দুর্গা মন্দিরে বিসর্জন নয়, চলবে নিত্যপূজা: টনি মল্লিক

সিলেট বিভাগের ৬ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, প্লাবিত হচ্ছে নিম্ন এলাকা

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট / ১২১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিপদসীমা ছাড়িয়েছে সিলেট বিভাগের ৬ নদীর পানি। ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টির ফলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পানিতে প্রবল বেগে মনু নদীর বাঁধ ভেঙে কমলগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু প্রাম প্লাবিত হয়েছে। বানিয়াচংয়ে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে।

উজানের পানি ও টানা বৃষ্টিতে হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ ছোট বড় সবক’টি হাওরই পানিতে টইটম্বুর। সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন অথৈ জলরাশি। পানি বাড়ায় হাওরপারের বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। হাওর গুলোতে পানির ধারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১২৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকায় গত দুই দিন ধরে সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। দিন ভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে সিলেট নগরের জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ০.২৬ পয়েন্ট নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাট পয়েন্টে ১২.৪৯ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৯.৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে বিপদসীমা ১০.৮০ সেন্টিমিটার। অপরদিকে কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে ১৪.৩০ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে ৮.৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে একই নদীর হবিগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারি গোয়াইন ও লোভাছড়া নদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

পাউবো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কানাইঘাটের সুরমা নদীর পয়েন্টে ২৪ মিলিমিটার, সিলেটে ৫৮ মিলিমিটার, কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে ১২২ মিলিমিটার ও শেরপুর পয়েন্টে ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের পানি ও সিলেট অঞ্চলের টানা বৃষ্টির ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কুশিয়ারা অববাহিকার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু, ধলই, জুড়ি, খোয়াই, সুতাং ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। হবিগঞ্জ পাউবো জানিয়েছে, হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন খোয়াই নদীর পানিও বিপজ্জনক ভাবে বেড়েছে। এতে শহর ও আশপাশের উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় খোয়াই নদীর পানি বাল্লা স্টেশনে বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জে ৯৯ সেন্টিমিটার এবং মাধবপুরের হরিপুর পয়েন্টে ১৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জের সুতাং সেতু পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ৬১ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি উজানে হ্রাস পেলেও ভাটিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের হুমকি দেখা দিয়েছে। পানির চাপে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে বাঁধ। হালকা ফাটল ও ছিদ্র হয়ে চুইছে পানি। প্রতিরক্ষা বাঁধের অপর পাশে থাকা বানিয়াচং উপজেলার মকরমপুর ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় নদীর বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে ওই উপজেলার মকরমপুর ও সুজাতপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্তমানে হাওরে কোনো ফসল না থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা কম রয়েছে। এদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর এলাকার দানিয়ালপুর যশের আব্দা, কামড়াপুর এলাকায় শতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর