নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সিধলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পরিমলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক কারবারিদের সহযোগিতা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে পক্ষপাতমূলকভাবে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে উপজেলার ৭ নম্বর কৈলাটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের শত শত মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বেনুয়া-চানকোনা বাজারে ‘সিধলী এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেনুয়া, চানকোনা, বরণখিলা, নাওড়িপাড়া, জামসেন, বানিয়াপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির আর্থিক বিরোধের ঘটনায় এসআই পরিমল পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, একটি উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনের ভাড়া বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পাওনা টাকা নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও সমাধান না হওয়ায় একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন চেয়ারম্যানের খামার থেকে একটি গরু নিয়ে চানকোনা বাজারে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার পর এসআই পরিমল গরুটি উদ্ধার করে চেয়ারম্যানের কাছে ফিরিয়ে দেন এবং শাহাবুদ্দিনকে ‘গরু চুরি’র মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সিধলী বাজারের শ্যামপুর চার রাস্তার মোড়ে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা মাদকসহ আটক করার পর পুলিশি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও এসআই পরিমল তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেননি। পরে নেত্রকোণা সদর থানা পুলিশকে ঘটনাস্থলে ডাকা হলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলে তারা দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি কলমাকান্দা থানার আওতাধীন হওয়ায় সদর থানা পুলিশকে দূর থেকে ডাকার কারণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা এসআই পরিমলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তদন্ত চলাকালে তাকে সিধলী তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, স্থানীয়দের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার অন্যান্য তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই পরিমল ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানা ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।