বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
ফতুল্লায় খসরু-মজিবরের ছত্রছায়ায় নাদিম-সোহেলের রমরমা মাদক ব্যাবসা সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গঠনে ভূমিকা রাখছে ছাত্র জমিয়ত আমতলীর টিএসআই নারায়ণ চন্দ্র জেলার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক অফিসার, পুরস্কার পেলেন পঞ্চমবার আমতলী থানার সাফল্যের স্বীকৃতি, টানা দ্বিতীয়বার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ইয়াকুব হোসাইন ফতুল্লায় চুনোপুঁটি আসমা গ্রেপ্তার, অধরা মূল হোতা শীর্ষ মাদক সম্রাট মনু সাধু আমতলীতে চুরি-ডাকাতি, মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দমনে গ্রাম পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা বন্দরে বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ ‘কুখ্যাত ডাকাত’ খোকন চোক্কাসহ ৩ জন গ্রেফতার বন্দরে পূজার মেলায় ৩ যুবককে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় ‘মেডি স্টার’ হাসপাতালে মা ও গর্ভের সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু ফতুল্লায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রাসেলকে খুনের হুমকি

নারায়ণগঞ্জে আতঙ্কের নাম পুলিশ সোর্স আকাশ ও দ্বীন ইসলাম

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ২০৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের শহর ও শহরতলীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগী বা ‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে আকাশ ও দ্বীন ইসলাম নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছেন এবং এতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আকাশের বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এবং দ্বীন ইসলামের বাড়ি মুসহলিমনগরের মরা খালপাড় এলাকায় হলেও তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নয় নিজ নিজ এলাকায়। বরং জেলার বিভিন্ন স্থানে তারা কখনো থানা পুলিশ, কখনো র‍্যাব, আবার কখনো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের প্রভাব খাটান বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো তাদের নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি।

এ প্রতিবেদকের কাছে পৌঁছানো একটি অডিও বার্তায় আকাশ নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে টাকা না দিলে মিন্টু রোডের ডিবি পুলিশের মাধ্যমে ধরে নেওয়ার হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, পুলিশের সোর্স পরিচয়কে পুঁজি করে আকাশ ও দ্বীন ইসলাম নিজেদের এলাকায় মাদক বিক্রির জন্য আলাদা স্পট গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে নিয়মিত চাঁদা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কখনো পুলিশ বা র‍্যাবের অভিযান আসছে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করেও অর্থ আদায় করা হয় বলে দাবি করেন তারা।

মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত কয়েকজন সামাজিক কর্মী জানান, তারা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এতে সমাজে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আকাশ ও দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর