নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় এক চিহ্নিত বিতর্কিত ব্যক্তির নিয়মিত যাতায়াত এবং পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার রহস্যজনক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিসিক চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা ‘অভি’ নামের ওই ব্যক্তির থানার অভ্যন্তরে অবাধ বিচরণ এবং পুলিশের সাথে সখ্যতার বিষয়টি এখন পুরো এলাকায় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, অভি মূলত ফতুল্লা অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘পাগলা হামিদ’-এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিসিক চাঁদনী হাউজিং এলাকায় মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, দেহব্যবসা এবং গ্যাস লাইনের অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে একটি বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন এই পাগলা হামিদ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও, ওই এলাকায় নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে অভিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে অভি নিজেকে যুবদল কর্মী দাবি করে এলাকায় নতুন একটি প্রভাব বলয় তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি পঞ্চবটী চাঁদনী হাউজিং এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট (গার্মেন্টস বর্জ্য) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘাতের সময় যেসকল আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে, সেগুলো বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অনুসারীদের অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই দিনের সংঘর্ষে পাগলা হামিদের ক্যাডার বাহিনীও সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং ঝুট সেক্টরের দখল ধরে রাখতে হামিদের পক্ষ থেকে অভিকে সব ধরনের ব্যাকআপ দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পাগলা হামিদ ও তার অনুসারীরা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এখন রাজনৈতিক পরিচয় বদলের চেষ্টা করছে। তারা ছদ্মবেশে এলাকায় বিভাজন তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যুবদলের নাম ভাঙিয়ে অভিকে ফতুল্লা থানায় বসিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে বলেও তারা দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল সকালে বিসিক শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন চাঁদনী হাউজিং এলাকায় কারখানার ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হন। উক্ত ঘটনায় এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি হিসেবে অভির নাম রয়েছে।
থানায় মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও অভির এমন অবাধ যাতায়াত এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অভি, পলাতক বা অন্তরালে থাকা পাগলা হামিদ কিংবা ফতুল্লা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।