দীর্ঘদিনের আত্মগোপন পর্বের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম শামীম ওসমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক দলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে তাঁকে।
সম্প্রতি ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে নতুন করে তীব্র চঞ্চলতা সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় শামীম ওসমান তাঁর বহুল আলোচিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানের নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে ‘যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, খেলা হয় খেলোয়াড়দের সাথে, একাত্তরের পরাজিত শক্তি কোনো খেলোয়াড় নয়। ওদের সাথে যদি হয়, তাহলে খেলা নয়, যুদ্ধ হবে। বক্তব্যে তিনি আরও যোগ করেন, ইনশাআল্লাহ এবং আমরা জিতব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আত্মগোপনে থাকা সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা নিজের আগের ‘খেলা হবে’ অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধের এই হুংকার দিয়ে মূলত প্রবাসে থাকা ও দেশে অবস্থানরত তাঁর রাজনৈতিক অনুসারীদের চাঙ্গা করার প্রয়াস চালাচ্ছেন।
বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ক্ষণস্থায়ী’ বলে দাবি করেন এই সাবেক সংসদ সদস্য। ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের চাঙ্গা ও আশ্বস্ত করতে তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন বলে এক বড় ধরনের ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান শামীম ওসমান। গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জে একাধিক সশস্ত্র হামলা, নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ উসকানি, পরিকল্পনা ও জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার একাধিক থানা এবং আদালতে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ডজনখানেক মামলা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে এসে শামীম ওসমানের বক্তব্য দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের মতে, দেশে একাধিক হত্যা ও গণহত্যা মামলার আসামি হয়ে বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে বসে এমন উসকানিমূলক বার্তা দেওয়া বস্তুত ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চক্রান্ত।
গণমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকে অবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে কিংবা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারে মুখোমুখি করার জোর দাবি জানিয়েছেন।