নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের দেওপুর গ্রামে মোঃ আবু তাহের (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার ব্যানার নিয়ে এলাকায় প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেওপুর গ্রামের মোঃ মোতালিবের সাথে প্রতিবেশী সেলিম মিয়া, সুপায়েল, রুমান ও রুবেল গংদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাদীর একটি মূল্যবান গরু খালের পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে বিবাদীদের বিরুদ্ধে।
ঐ ঘটনার জেরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আবু তাহের দেওপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাবুল মিয়ার বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছামাত্রই ওত পেতে থাকা বিবাদীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র রামদা, দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় আবু তাহেরের মাথা, চোখ, ঠোঁট এবং দুই পায়ে গুরুতর ও রক্তাক্ত জখম হয়। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মোঃ মোতালিব বাদী হয়ে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে বারহাট্টা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্তরা হলেন—একই গ্রামের সেলিম মিয়া, সুপায়েল মিয়া, রুমান মিয়া, রুবেল মিয়া ও বাবু মিয়া।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হামলার পরও আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে লাগাতার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “আমরা ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”