বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের চামিলি বাজার এলাকায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা গুরুতর আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন স্থানীয়ভাবে আলোচিত ব্যক্তি ইব্রাহিম হোসেন ওরফে কালু।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন কালু। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার বিকেলে চামিলি বাজার এলাকায় গোলাম মোস্তফার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষুব্ধ জনতা কালু ও তার এক সহযোগীকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত অপর ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কালুর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, দস্যুতা ও মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক অভিযোগ ও মামলা ছিল। অতীতেও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তার নাম সামনে আসে বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।